ফরেক্স ট্রেডিং ধারাবাহিক বাংলা টিউটরিয়াল পার্ট : ২ (ফরেক্স মার্কেটের বেসিক ধারণা)

ফরেক্স ট্রেডিং কারেন্সি:

শেয়ার মার্কেটের নিয়ম হচ্ছে যেকোনো শেয়ারের মূল্য সে দেশের মুদ্রার বিপরীতে নির্ধারিত হবে। যেমন, আমাদের দেশের শেয়ার মার্কেটে কোনো শেয়ারের মূল্য টাকায় নির্ধারিত হয়।
কিন্তু ফরেক্স মার্কেটে এভাবে কোন দেশের মূদ্রা বা কারেন্সির মান নির্ধারণ অসম্ভব। শুধু ইউরো বা ডলারের কোন মূল্য থাকতে পারে না।

১ ডলার দিয়ে ৮৩ বাংলাদেশী টাকা পাওয়া যায়। এবার ১ ডলার দিয়ে মাত্র ০.৭০ ইউরো অথবা ০.৯৩ অস্ট্রেলিয়ান ডলার পাওয়া সম্ভব। আবার যদি জাপানিজ ইয়েনের কথা ধরি, তাহলে ১ ডলার দিয়ে আপনি ৮০ ইয়েন পাবেন। তাহলে, ডলারর মূল্য আসলে কোনটি? বিভিন্ন দেশের মানুষই তো ফরেক্স মার্কেটে ট্রেড করে, কোন দামে তারা ডলার কিনবে?

এই জন্যই ফরেক্স মার্কেটে সবকিছু কারেন্সি পেয়ারের মাধ্যমে ট্রেড হয়।

কারেন্সি পেয়ার কি?

ফরেক্স ট্রেডিং হল একই সাথে একটি কারেন্সির ক্রয় এবং অন্য কারেন্সির বিক্রয়। কারেন্সি কোন ব্রোকার অথবা ডিলারের মাধ্যমে এবং Pair বা জোড়ায় ট্রেড করা হয়। একই সাথে দুটি দেশের কারেন্সিকে কারেন্সি পেয়ার বলা হয়।

উদাহারনসরূপঃ ইউরো ও ইউ. এস. ডলার এর জোড় EUR/USD অথবা ব্রিটিশ পাউন্ড ও জাপানিজ ইয়েন এর জোড় GBP/JPY. আপনি যখন ফরেক্স ট্রেডিং করবেন, আপনাকে Pair বা জোড় এর মাধ্যমে ক্রয়/বিক্রয় করতে হবে।

মনে করুন, একটি রশির দুই প্রান্তে দুটি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা রয়েছে। এক্সচেঞ্জ রেট ওঠা-নামা করে, কখন কোন কারেন্সি শক্তিশালী তার ওপর ভিত্তি করে।

প্রধান কারেন্সি পেয়ার সমূহ:

  • EUR/USD
  • GBP/USD
  • USD/JPY
  • USD/CHF
  • USD/CAD
  • NZD/USD
  • AUD/USD

উপরের কারেন্সি পেয়ারগুলোকে প্রধান কারেন্সি পেয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই কারেন্সি পেয়ার গুলো USD পেয়ার এবং সহসাই ট্রেড করা হয়। এই প্রধান পেয়ার গুলোর তারল্য সবচেয়ে বেশি এবং এগুলো বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ট্রেড করা হয়।

ক্রস কারেন্সি পেয়ার:
যখন একটি কারেন্সি পেয়ারের দুটো কারেন্সির কোনটিই ডলার নয়, তখন তাকে বলা হয় ক্রস কারেন্সি পেয়ার বা কারেন্সি ক্রস পেয়ার। এক কথায় ইউ. এস. ডলার ব্যাতিত কারেন্সি পেয়ারসমূহকে ক্রস কারেন্সি পেয়ার অথবা শুধু ক্রস পেয়ার বলা হয়।

ক্রস কারেন্সি পেয়ার সমূহ:

  • EUR/GBP
  • AUD/CAD
  • CHF/JPY
  • GBP/CHF
  • AUD/JPY
  • GBP/JPY

কারেন্সি পেয়ারের মাধ্যমে ট্রেড করার নিয়ম:

EUR/USD (ইউরো/উএসডি), একটি কারেন্সি পেয়ার। বর্তমানে 1 EUR/USD = 1.2325 . এর মানে হচ্ছে ১ ইউরো দিয়ে আপনি 1.2325 ডলার পাবেন।

চলুন দেখে নেই আরও কিছু কারেন্সি পেয়ারঃ

  • 1 AUD/USD = 1.0543 , এর মানে হচ্ছে ১ অস্ট্রেলিয়ান ডলার দিয়ে আপনি ১.০৫৪৩ আমেরিকান ডলার পাবেন।
  • 1 GBP/USD = 1.6422 , এর মানে হচ্ছে ১ পাউন্ড দিয়ে আপনি ১.৬৪২২ আমেরিকান ডলার পাবেন।
  • 1 NZD/USD = 0.8177 , এর মানে হচ্ছে ১ নিউজিল্যান্ড ডলার দিয়ে আপনি ০.৮১৭৭ আমেরিকান ডলার পাবেনচা
  • 1 USD/JPY = 80.29 , এর মানে হচ্ছে ১ ডলার দিয়ে আপনি ৮০.২৯ জাপানিজ ইয়েন পাবেন।
  • 1 EUR/JPY = 115.91 , এর মানে হচ্ছে ১ ইউরো দিয়ে আপনি ১১৫.৯১ জাপানিজ ইয়েন পাবেন।

এখন বুঝলেন কারেন্সি পেয়ারের ব্যাপারটা?

ভাই, আমি যদি একটু ঘুরায় লিখি? মানে আপনি তো লিখলেন যে, 1 EUR/USD = 1.4434 আমি যদি এভাবে EUR/USD না লিখে USD/EUR লিখি, তাহলে কোনো সমস্যা আছে?
অবশ্যই নেই। তবে মনে রাখবেন, কারেন্সি পেয়ারের প্রথম কারেন্সি নির্দেশ করে তা দিয়ে আপনি কত পরের কারেন্সিটা পাবেন।

1 EUR/USD = 1.4434 . এর মানে হচ্ছে ১ ইউরো দিয়ে আপনি ১.৪৪৩৪ ডলার পাবেন।

তাহলে উল্টো ভাবে, 1 USD/EUR = নির্দেশ করবে ১ ডলার দিয়ে আপনি কত ইউরো পাবেন। উত্তর হবে, ঠিক উল্টো, 1/1.4434 বা ০.6928

যদি 1.4434 USD = 1 EUR হয়
সুতরাং 1 USD = 1/1.4434 = 0.6928 EUR হবে

একটা ছোট্ট পরীক্ষা নেই আপনার, দেখি আপনি কিছু শিখতে পারলেন না। উত্তর মিলিয়ে নিতে পারবেন, এই পোষ্টের নিচে দেওয়া আছে। সাবধান উত্তর কিন্তু চুরি করবেন না!

প্রশ্ন: 1 EUR/GBP = 0.8708 এবং 1 GBP/EUR = 1.1484 এর অর্থ কি? চাইলে উপর থেকে সাহায্য নিতে পারবেন, আর নিচ থেকে উত্তর মিলিয়ে নিতে পারবেন।

একটা প্রশ্ন এখনও রয়েই গেল, আপনি প্রতিবার দশমিকের পরে এতগুলো সংখ্যা নিচ্ছেন কেন? যেমন, 1 EUR/USD = 1.4434 লিখেন কেন? 1.44 লিখলেই তো হয়। শেয়ার মার্কেটে তো এই দশমিকের ভেজাল নাই, সব শেয়ারের মূল্য হয় ২০ টাকা, নয় ৬০ টাকা নতুবা হয়ত ১২০০ টাকা। কোনদিন তো শেয়ারের দাম ২০.২৫৪৩ তা শুনি নাই। এত ভেজাল কেন?

প্রথমত ফরেক্স মার্কেটে কোন কারেন্সি পেয়ার হচ্ছে দুইটা কারেন্সির অনুপাত। যেমন, EUR/USD এর মানে হচ্ছে ১ ইউরো দিয়ে কত ডলার পাব। শেয়ার মার্কেটে তো আর আমরা ১ টা জনতা ব্যাঙ্কের শেয়ার দিয়ে মেঘনা সিমেন্টের কয়টা শেয়ার পাবো তা এর হিসাব করি না। আর তাই, আমাদের দেশের শেয়ার মার্কেটে অধিকাংশ শেয়ারের দাম পুরন সংখ্যায়, তবে কিছু শেয়ারের দাম দশমিকে।

এর ফরেক্স মার্কেটে দশমিকের পর ৪ টা ঘর পর্যন্ত নেয়া হয়েছে কারন ফরেক্স মার্কেটে সাধারনত মুভমেন্ট দশমিকের পরে ৩ আর ৪ নাম্বার ঘরেই বেশি হয়। তাই এটাকে স্ট্যান্ডার্ড ধরা হয়েছে।

চলুন দেখে নেই এক নজরে ১ মার্চ থেকে ৫ মার্চ ২০১৮ , ৪ দিনের EUR/USD এর মূল্য:

তারিখ – দিনের সর্বোচ্চ – দিনের সর্বনিম্ন
১ মার্চ  – ১.২২৭২ – ১.২১৫৩
২ মার্চ – ১.২৩৩৬ – ১.২২৫০
৪ মার্চ – ১.২৩৬৫ – ১.২৩০০
৫ মার্চ – ১.২৩৪৯ – ১.২২৬৯

দেখতেই পাচ্ছেন যে মার্কেট যা মুভ করছে তা মূলত দশমিকের পরে ২য়, ৩য় ও ৪র্থ ঘরে হচ্ছে।

এক নজরে দেখে নিন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ট্রেড করা কারেন্সিগুলো সাথে তাদের র‌্যাংকিং এবং কারেন্সি কোড

উত্তর:
1 EUR/GPB = 0.8708, এর মানে হচ্ছে ১ ইউরো দিয়ে আপনি ­ 0.8708 পাউন্ড পাবেন এবং
1 GBP/EUR = 1.1484 এর মানে হচ্ছে ১ পাউন্ড দিয়ে আপনি 1.1484 ইউরো পাবেন

আজ এই পর্যন্তই দেখা হবে পরের পার্টে ধন্যবাদ

ভূলত্রুটি মার্জনীয়, কারো কোন প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট বক্স তো আছেই।

পোষ্ট ক্রেডিট: বিডিপিপস স্কুল

কিওয়ার্ড: ফরেক্স মার্কেট, ফরেক্স মার্কেট কি, ফরেক্স মার্কেট বেসিক, currency pairs forex, currency pair nicknames, currency pair list, currency pair buy sell, currency pair, currency pair trading