ফরেক্স ট্রেডিং ধারাবাহিক বাংলা টিউটরিয়াল পার্ট : ৪ (টাইমফ্রেম, স্প্রেড এবং লিভারেজ কি?)

টাইমফ্রেম কি?

টাইমফ্রেমের মাধ্যমে আমরা কোন নির্দিষ্ট ৫ মিনিট, ১৫ মিনিট, ১ ঘন্টা, ১ সপ্তাহ বা ১ মাসে প্রাইস সর্বোচ্চ কত বেড়েছিল বা কমেছিল ইত্যাদি আমরা জানতে পারি। যদি আমরা ১টি ৫ মিনিটের ক্যানডেল দেখি, তাহলে তা থেকে আমরা বুঝতে পারবোঃকোন প্রাইসে ক্যানডেলটি শুরু হয়েছে

  • কোন প্রাইসে ক্যানডেলটি ক্লোজ হয়েছে
  • প্রাইস ঐ ৫ মিনিটে সর্বোচ্চ কত বেড়েছিল
  • প্রাইস ঐ ৫ মিনিটে সর্বনিম্ন কত কমেছিল

সাধারনত নিম্নোক্ত টাইমফ্রেমগুলো বেশী ইউজ হয় কারন এগুলো মেটাট্রেডার ৪ এ দেয়া আছে। কিন্তু মেটাট্রেডার ৫ এ আপনি আরো কাস্টম টাইমফ্রেম ব্যবহার করতে পারবেন।

  • M1 = ১ মিনিট
  • M5 = ৫ মিনিট
  • M15 = ১৫ মিনিট
  • M30 = ৩০ মিনিট
  • H1 = ১ ঘন্টা
  • H4 = ৪ ঘন্টা
  • D1 = ১  দিন
  • W1 = ১ সপ্তাহ
  • MN = ১ মাস

আপনি কোন নির্দিষ্ট টাইমফ্রেমের কোন ১টি ক্যানডেল দেখলেই বুঝতে পারবেন ঐ সময়ে প্রাইসের মুভমেন্ট কেমন হয়েছিল।

লাল দাগ দিয়ে সিলেকটেড ক্যানডেলটি দেখুন। এটা দেখে ৪ ঘন্টায় প্রাইস অ্যাকশন বোঝা যাচ্ছে।

কোন টাইমফ্রেমে ট্রেড করবো?

এটা নির্ভর করে আপনি কি ধরনের ট্রেড করতে চান। আপনি যদি স্ক্যাল্পিং পছন্দ করেন তবে আপনার উচিত M1, M5 অথবা M15 এ ট্রেড করা। আপনি যদি সাধারন কিংবা একটু লং টার্ম ট্রেড করতে চান, তবে আপনার M30, H1 অথবা H4 এ ট্রেড করা উচিত। সুইং বা পজিশন ট্রেড করতে আগ্রহী হলে আপনার সপ্তাহ অথবা মাসের টাইমফ্রেমগুলোকে অ্যানালাইসিস করা উচিত।

স্প্রেড কি?

আপনি একটি ট্রেড ওপেন করলেই দেখবেন ট্রেডটি কিছুটা লসে ওপেন হবে। এটাকেই স্প্রেড বলে। ফরেক্স ব্রোকার একটি ট্রেড ওপেন করার জন্য এই ফি কমিশন বা চার্জ হিসেবে কেটে নেয়।

আপনি ধরুন ১.৭৪৪৫ এ GBP/USD বাই করলেন, কিন্তু তা ১.৭৪৪৯ এ ওপেন হবে অর্থাৎ ৩ পিপস ফি প্রযোজ্য হয়েছে। আপনি যদি $১ পিপস ভ্যালু দিয়ে ট্রেড ওপেন করে থাকেন তবে ট্রেডটি $৩ লসে ওপেন হবে।

 

বিভিন্ন পেয়ারের স্প্রেড বিভিন্ন হয়। আবার বিভিন্ন ব্রোকার ভেদেও স্প্রেড কম বেশি হতে পারে। যেমন Instaforex এ EUR/USD এর স্প্রেড ৩ পিপস। কিন্তু Fxoptimax এ EUR/USD এর স্প্রেড ২ পিপস। কিছু কিছু পেয়ার এ স্প্রেড ৩০ পিপস পর্যন্ত বা তার বেশী হতে পারে। তাই অপরিচিত পেয়ার ট্রেড করার আগে স্প্রেড কত তা দেখা নেয়া উচিত।

স্টপ লস এবং টেক প্রফিট কি?

স্টপ লস (Stop loss): স্টপ লসের মাধ্যমে আপনি আপনার লসে থাকা ট্রেডটি কোন প্রাইস এ বন্ধ করে দিতে চান তা ঠিক করে দিতে পারবেন।

টেক প্রফিট (Take profit): টেক প্রফিটের মাধ্যমে আপনি আপনার লাভে থাকা ট্রেডটি কোন প্রাইসে বন্ধ করে দিতে চান তা ঠিক করে দিতে পারবেন।

ধরুন, আপনি ১.৩৫৪০ তে একটি বাই ট্রেড ওপেন করলেন। আপনি চাচ্ছেন ৫০ পিপস লাভ করবেন এবং ৫০ পিপসের বেশি লস করবেন না। তাহলে আপনি ৫০ পিপস স্টপ লস এবং ৫০ পিপস টেক প্রফিট সেট করে রাখতে পারেন। আপনার কম্পিউটার বন্ধ থাকলে বা কোন স্পাইকের ফলে হঠাৎ প্রাইস বেড়ে বা কমে গেলে, স্টপ লস বা টেক প্রফিটের প্রাইসে অটোমেটিক ভাবে আপনার ট্রেড ক্লোজ হয়ে যাবে।

লিভারেজ কি?

সহজ ভাষায়: আপনার ফরেক্স ব্রোাকার একাউন্টে যে পরিমাণ ডলার আছে তার চেয়ে বেশী পরিমাণে ট্রেড করার সুযোগকে লিভারেজ বলে।  লিভারেজ বা মার্জিন লোন হচ্ছে আপনার ক্যাপিটাল এর উপর সর্বোচ্চ কত গুন লোন আপনার ফরেক্স ব্রোকার আপনাকে দিবে।

ধরুন, আপনার ব্যাল্যান্স বা ক্যাপিটাল হচ্ছে ১০০ ডলার ।  ১০০ ডলার বিনিয়োগ করে যদি ২০০ ডলারের ট্রেড করতে দেয় তাহলে লেভারেজ ১:২, যদি ১০০০  ট্রেড করার সুযোগ পাওয়া যায় তাহলে লেভারেজ ১:১০ (পড়ুন ১ এর জন্য ১০)

আপনি যদি ১;১০ লিভারেজ ব্যাবহার করেন, তাহলে আপনি ট্রেড করার সময় আপনার ব্রোকার আপনাকে সর্বোচ্চ্য ১০ গুন পর্যন্ত লোন দিবে। সুতরাং,  ১০ ডলার দিয়ে ১০x১০=১০০ ডলার ট্রেড করতে পারবেন। এখন এইটা আপনার ব্যাপার আপনি কত পরিমান লোন নিবেন।

কারেন্সিতে সবচেয়ে ছোট পরিবর্তনের ইউনিটের নাম পিপ। ১০০ সেন্ট (পয়সা) এ যেরকম ১ ডলার (টাকা) হয় সেরকম ১০০ পিপে ১ সেন্ট (পয়সা) হয়। এটি ক্ষুদ্র ইউনিট কিন্তু যখন কেনা বেচার পরিমাণ অনেক হয় তখন এই সামান্য পরিবর্তন ডলারের হিসেবে অনেক হয়।

ধরুন, টাকায় ১ পিপ বৃদ্ধি পেলে ১ টাকায় লাভ হয় ১ পয়সার ১০০ ভাগের এক ভাগ কিন্তু ১ লটে (১ লাখ টাকায়) লাভ হয় ১০ টাকা। মনে করুণ EUR/USD 1.3050 থেকে বৃদ্ধি পেয়ে 1.3051 হল, তাহলে EUR/USD এর দাম ১ পিপ বৃদ্ধি পেল।

আজকে এ পর্যন্তই পরবর্তি টিউটরিয়াল পড়ার অগ্রীম আমন্ত্রণ রইলো…

#আপনার অনুভূতি জানাতে বা কিছু জানার থাকলে নিচে কমেন্ট করুন।

পোষ্ট ক্রেডিট: বিডিপিপস স্কুল